ভোলায় সুপাড়ি গাছ থেকে পড়ে বালকের মৃত্যু

ভোলায় সুপাড়ি গাছ থেকে পড়ে বালকের মৃত্
ভোলা প্রতিনিধিঃ
ভোলায় সুপারি গাছ থেকে পড়ে তুহিন (১৪) নামে এক বালকের মৃতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) ভোলার চরনোয়াবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই মাইনুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। যার নং-৪৪।
সূত্রে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার মধ্য চরনোয়াবাদ পৌর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ জাকির হোসেনের পুত্র তুহিন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্থানীয় সাবেক পুলিশের ডিআইজি মরহুম আঃ সালামের সুপারি গাছে সুপারি পাড়তে গেলে ওই গাছ থেকে পড়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসারত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় আঃ সালাম মাষ্টার জানান, ডিআইজি সালাম এর কেয়ারটেকার মোঃ আব্দুল্লাহ সুপারী পারার জন্য তুহিনকে ডেকে নিয়ে যায়। তিনি বলেন ওই সুপারি বাগান আমার বাসার সামনে, আমি হঠাৎ করে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি তুহিনের নিথর দেহ বাগানে পড়ে আছে। পরে ডাক চিৎকার করলে স্থানীরা এগিয়ে আসে এবং তাকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যায়।
তুহিনের মা নাজমা বেগম জানান, আমার ছেলে তুহিন তার বাবাকে ভ্যানে করে জুতা বিক্রি করতে সাহায্য করতো। ঘটনার দিন তুহিন তার মাকে বলে যায় আমি সালাম সাহেবের বাগান থেকে সুপারি পাড়তে যাই। আমাকে আব্দুল্লাহ ভাই যেতে বলছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে যাদের সুপারি পাড়তে গিয়ে মরলো তারা কেউই হাসপাতাল যায়নি এবং কোন খবর নেয়নি।
এদিকে এ ঘটনার পর সাবেক ডিআইজি সালাম সাহেবের বাসায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় এক বৃদ্ধ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উল্টো ডিআইজি সাহেবের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় তুহিন তাদের সুপারি চুরি করতে গিয়েছিল।
এলাকাবাসী বলছেন, যেহেতু সাবেক ডিআইজি সাহেবের গাছ থেকে পড়ে ছেলেটি মারা গেছে তাই তাদের সহযোগীতা করার দরকার ছিল ওই পরিবারটিকে। কিন্তু তা না করে তারা ওই পরিবারের বিরুদ্ধে উল্টো নানান ধরনের কুৎসা রটাচ্ছে। এলাকাবাসী এবং ওই ছেলেটির পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাচ্ছেন। যাতে তুহিনের দরিদ্র পরিবার সহযোগীতা পেতে পারে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ছগির মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ভোলা সদর হাসপাতালে গিয়ে মৃত দেহের সুরতহাল প্রতিবেদন নিয়েছে এবং লাশের ময়না তদন্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই মাইনুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। যার নং-৪৪।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।