খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ে সোনারগাঁয়ে যুবদল ছাত্রদলে ক্ষোভের বন্যা

গতকাল ২৯/১০/২০১৮ ইং সোমবার জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত ৭ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেতা এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে সোনারগাঁ থানা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে সোনারগাঁ থানা যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সকালবিডি ২৪ কে দেয়া বিবৃতি তুলে ধরা হলো,
সোনারগাঁ থানা যুবদল নেতা আশরাফ মোল্লা বলেন,
সরকার আজ ভীত সন্ত্রস্ত। আর এই ভীতির কারণ হচ্ছে সারাদেশে বেগম খালেদা জিয়ার তুমুল জনপ্রিয়তা।
সেই জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে সরকার মিথ্যা ও বানোয়াটভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে গতকাল পাতানো কোর্টে এমন অবৈধ রায় দেয়া হয়েছে।
এ রায় শুধু আমরা কেন?
দেশের কোনো সাধারণ মানুষই মানে না।
এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করছি ঘৃনাভরে।

নারায়নগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা হাজী ইকবাল হক তার বিবৃতিতে বলেন,
বর্তমান সরকার আপোষহীন দেশনেত্রী ও গনতন্ত্রের প্রতীক বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে প্রভাবিত করে এটাই প্রমান করলো যে,
দেশে বর্তমানে ন্যায্য বিচারের কোনো সিস্টেমই নেই। বিচার ব্যবস্থা এখন কলুষিত। ক্ষমতা যার, বিচার এর রায় যাবে তার পক্ষেই। বর্তমান সরকারের সাজানো এ রায়কে দেশের জনগন মেনে নেয়নি আর আমাদের তো মেনে নেয়ার প্রশ্নই আসে না। যেখানে গনতন্ত্র নেই সেখানে বিচার ব্যবস্থা বেহাল হবে সেটাইতো স্বাভাবিক।

সোনারগাঁ থানা ছাত্রদল নেতা মোজাম্মেল হক বলেন,
সরকার যে ক্ষমতা হাড়ানোর ভয়ে অনৈতিক কত কিছু করতে পারে তা দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে দেয়া মিথ্যা ও বানোয়াট রায়ের মাধ্যমেই দেশবাসী তার প্রমাণ পেলো। এ রায় দেশবাসীর সাথে আমরাও প্রত্যাখান করছি। এবং অতি দ্রুত দেশনেত্রীর মুক্তি দাবি করছি।

থানা ছাত্রদল নেতা রুবেল হোসাইন বলেন,
কি বলবো? যা বলার তা তো গত ১০ বছর যাবতই বলে চলেছি, এরা যে শুধু ন্যায় বিচার না করে ন্যায় বিচারে বাধা প্রদানও করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকা অবস্থায় তার অনুপস্থিতিতেই তার বিরুদ্ধে রায় দেয়া হয়েছে। এ বিচারকার্য নিয়ে এত তড়িঘড়ি কেন করছে সরকার তা কিন্তু দেশবাসীর কাছে অজানা নয়।
দেশের জনগন কিন্তু বোকা নয়, দেশের জনগন সবই জানে।
এ রায় যে অন্যায় ও জুলুমের বহিঃপ্রকাশ তা সকলেই অবগত।

ছাত্রদলের আরেক নেতা ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী হিমেল বলেন,
এদেশের ছাত্রসমাজ এ রায় মানেনা…
সরকারের আজ্ঞাবহ আদালত থেকে গণতন্ত্র মাতা, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার এই ফরমায়েশি রায় মানিনা দেশের ১৬ কোটি জনগণ মানেনা।
৭৫ বছর বয়সে আপনার নির্জন কারাবাস বৃথা গেলে ইতিহাস ব্যর্থ হয়ে যাবে। অতীত মিথ্যা হয়ে যাবে, কারন বিপ্লবীদের কারাবাস মুক্তির চুড়ান্ত সোপান।

জেলা ছাত্রদলের আরেক নেতা তরিকুল ইসলাম সরকারও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
বর্তমান অপস্বাসনে গতকাল যে রায় দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে দেয়া হলো তা যে, বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে সরকার দিয়েছে এটি তারই প্রমান।
আজ্ঞাবহ এ কোর্টে কাকে খুশী করার জন্য রায় ঘোষনা করেছে তাও ভালো করে জানে সকল জনগন।
আর এ রায় বাংলাদেশের জনগন সমর্থন করে না। এটি জনমনে ধিক্কার দেয়া রায়।
এটি যে রাজনৈতিক রায় তা প্রমাণিত এতেই হয়।
অবিলম্বে এ রায় স্থগিত করে নির্দোষ দেশনেত্রীর মুক্তি চাই।
আর এ রায়কে ঘৃনাভরে ধিক্কার দিচ্ছি।

থানা যুবদল নেতা জিয়াউল হক বলেছেন,
বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার সম্পুর্ণ অন্যায় ভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে এই রায় দেয়। আইন বিভাগের উপর সরকারের কালো হাতের প্রভাব বাংলার মানুষ দেখলো! ধিক্কার দেই এ রায়কে।
এ ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেয়া এ রায়ের প্রতিবাদ, নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবী করেন থানা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামও।
এ ছাড়াও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সব স্তরের বিভিন্ন নেতা কর্মীরা এ রায়কে ঘিরে জানিয়েছেন ক্ষোভ ও নিন্দা এবং অবিলম্বে বিএনপি।চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবী জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।