গাছের প্রতি ভালোবাসায় ঘর ত্যাগী হলেন ওয়াহিদ সরদার

মারুফ জাহানঃ গাছের প্রতি অসাধারন ভালবাসার ফলশ্রুতিতে ২০১৮ সালের ৪ঠা জুলাই থেকে পেরেক নিধন অভিযান শুরু করেন তিনি । শুরুতেই যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনা মহাসড়কের প্রায় ৫০০ কিলোমিটার জায়গার গাছের সাথে লাগিয়ে রাখা ১২৭ কেজি পেরেক অপসারন করেছেন যশোর জেলার গাছবন্ধু ওয়াহিদ সরদার।

 

পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি হয়েও স্বেচ্ছাশ্রমে এই মহৎ কাজটি শুরু করছেন ওয়াহিদ সরকার । গাছের প্রতি ভালবাসা তাকে এই কাজটি করতে উদ্ভুদ্ধ করেছে বলে জানান তিনি।

 

 

 

ওয়াহিদ সরকার বলেন, শুরুতেই এ কাজের প্রতি মানুষের নানা ভুল ধারনা ছিল, পরিবার থেকেও অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে তাকে। ওয়াহিদ সরকার এর মতে গাছের যেহেতু জীবন আছে, আর গাছে ব্যানার লাগালে, পেরেক ঠুকলে গাছ মারা যাবে, গাছ প্রকৃতির অকৃত্তিম বন্ধু এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত। বিজ্ঞান বলেছে, গাছের জীবন আছে, যার জীবন আছে, নিশ্চয় তার যন্ত্রনাও আছে, ব্যাথাও আছে। শিক্ষিত ক্ষমতাবান মানুষগুলো রাস্তার গাছে পেরেক দিয়ে ব্যানার লাগিয়ে তাদের প্রচার প্রচারনা চালান, এতে গাছের ক্ষতি হয়। একজন গাছ বন্ধু মানুষ হয়ে তিনি এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি। তাই নিজেই নেমেছেন রাস্তায়, গাছ থেকে তুলছেন পেরেক। উঠিয়ে ফেলছেন ব্যানার।

 

তিনি আরও বলেন, যেহেতু ব্যনার লাগানো ওই মানুষগুলো টাকাওয়ালা এবং ক্ষমতাবান, সেহেতেু ভয় তো থাকবেই, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে, কিন্তু সর্বশেষ তাদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এ কাজে স্থানীয় একটি এনজিও তাকে সহযোগিতা করেছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

এছাড়াও বিগত ২০০৬ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত নিজ খরচে এবং বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় প্রায় ৩০ হাজার নতুন গাছ রোপন করেছেন তিনি। অর্থাভাবে প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পার হতে পারেন নাই ওয়াহিদ সরকার।

 

সংসার চলে কিভাবে প্রশ্নের উত্তরে ওয়াহিদ সরকার জানান, তার এক ছেলে মালেশিয়া থাকে, সে সংসারের হাল ধরেছে, আর তিনি গাছ বাচানোর এই লড়াই করে যাচ্ছেন। ওয়াহিদ এর দাবি, যতদিন এই ব্যানারগুলো সরকারীভাবে সুপরিকল্পনার মাধ্যমে বন্ধ এবং ব্যনারগুলো জাদুঘরে সংরক্ষন না করা হবে,

 

 

 

ততক্ষন তিনি এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। এটা তার কাছে একটি যুদ্ধ।।

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।