অনলাইন ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং মাহফুজের চিন্তাভাবনা

মিমরাজ:

সাম্প্রতিক সময়ে একটা পোস্ট ভাইরাল করেছেন, ” ঘরে ঘরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরী না করে রক্তদাতা তৈরী করুন “।
আমার হুট করে অস্বাভাবিক মাত্রায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরী হওয়াতে কোন আপত্তি নেই, কারন একটা সংগঠন যে কোন উদ্দেশ্যেই হোক একজন মানুষেরও যদি হেল্প করে তাহলে একটা মানুষই উপকৃত হবে৷ কিন্তু বর্তমান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যখন মানবসেবা বাদ দিয়ে একজন আরবকজনের পিছনে বাঁশ ডুকাতে ব্যস্ত থাকে তখন একজন আমজনতা হয়েও আমাকে কিছু বলতে হয়৷

বাংলাদেশে বর্তমানে কতগুলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সঠিক তথ্য আমার জানা নেই ; সম্ভবত সেটা লাখের ঘরে পৌছে গেছে৷ সে তুলনায় কাজের কাজ কতটুকু হয়েছে?
এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পিজি হাসপাতালের মতো বড় বড় হাসপাতালে ব্লাডের প্রয়োজন হলে স্বেচ্ছাসেবীদের বেশি দালালেরাই বেশি ম্যানেজ করে দেয়। কত আবেগী ভলান্টিয়ার ফ্রিতে রক্তদান করে আসার পরও সেটা দালাল রোগীর লোকের কাছে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে সেটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না৷ সেচ্ছাসেবীরা আমার মতো সাধারণ পাবলিকদের সচেতন করবে কিভাবে ! তাদের মোট সংখ্যার অর্ধেকের বেশি লোকজন নিজেরাই অসচেতন।

রাজনৈতিক দল আর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুইটাই ভাঙে পদ মর্যাদা নিয়ে ঝামেলা হয়ে৷ আর বাংলাদেশে হঠাৎ করে এত এত সংগঠন তৈরী হবার পিছনের কারনের মধ্যে এটা একটি৷ সপ্তাহখানেক হয় মানবতার কাজ করতে এসে নিজেরা নিজেরা ঝামেলা করে একেকজন একেকটা সংগঠন খুলে বসে নিজেরাই প্রতিষ্ঠাতা হয়ে যায়। শুনতে খারাপ লাগলেও বলতে হয় আজকার সেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য মানবতার পক্ষে কাজ করা থেকে সড়ে এসে স্বেচ্ছাসেবীদের বাঁশ দেয়া হয়ে গেছে৷ সবার একই উদ্দেশ্য থাকার পরেও কেন সবাই একসাথে হয়ে কাজ করতে পারছেনা? লাখ লাখ সংগঠন কেন? কেন? কেন?

তবে কি প্রায় সবারই মানবসেবার চেয়ে নিজের সেবার উদ্দেশ্য থেকে এই বর্তমান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন !

এই সমস্যা সমাধানে আমার চিন্তাভাবনা ঃ আমার কাছে মনে হয়.. বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন৷ সরকার বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চালাতে হবে এই সকল সংগঠনগুলো৷ আর নিজকে একজন স্বেচ্ছাসেবী ঘোষণা করার আগে অই প্রতিষ্ঠান থেকে নিজের করনীয়, বর্জনীয় বিষয়ে স্বল্পকালীন ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করা উচিৎ।

তাহলে যারা সত্যিই মানবতার স্বার্থে কাজ করার জন্য এই প্লাটফর্মে এসেছিলো তারা অকালে হারিয়ে যাবে না৷ সিনিয়র ভাইবোনদের গড়ে তোলা এই সুন্দর প্লাটফর্মটা এভাবে নষ্ট হবে না৷ আর ” সেচ্ছাসেবী ” শব্দটাও গালি হিসাবে পরিণত হবে না৷

লিখেছেন নরসিংদী সরকারি কলেজ এর ব্যাবস্হাপণা বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র মাহফুজ আহমেদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।