ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই মাস বন্ধ হচ্ছে সুন্দরবনে মাছ ধরা

সাইমুন নিয়াত, শরণখোলা (বাগেরহাট)প্রতিনিধি

পূর্ব সুন্দরবনের দুই লাখ ৩৪ হাজার একশত ৪৭ বর্গ কিলোমিটার বনভূমির মধ্যে দুই শতাধিক নদী ও খাল রয়েছে। এর মধ্যে অভয়ারণ্য এলাকাসহ ১৮টি খাল এবং ২৫ ফুটের কম প্রসস্ত খালে সারা বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এছাড়া মৎস্য প্রজননের জন্য জুলাই ও আগষ্ট দুই মাস সকল খালে মৎস্য আহরন বন্ধ করা হয়।

আগামী জুলাই ও আগস্ট দুই মাস সুন্দরবনে সকল প্রকার মৎস্য আহরন বন্ধ হচ্ছে। সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও প্রজননরে জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। তবে বিকল্প কর্মসংস্থান না করে মাছ ধরা বন্ধ করার সিদ্ধান্তে জেলেদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চি হয়ে পড়েছে।

এসব নিষিদ্ধ নদী-খাল ছাড়া সারা বছর প্রতি গোনে (প্রতি মাসের আমাবশ্বা ও পূর্ণিমার সময় মাছ ধরার মৌসুম) প্রায় দুই হাজার পারমিটধারী জেলে মৎস্য আহরন করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এ মৎস্য আহরনের উপর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জরিত রয়েছে।

এদিকে জেলেরা জানান বর্তমানে করোনা দুযোর্গের কারনে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে তার উপর মৎস্য আহরন দুই মাস বন্ধ থাকলে জেলেদের জীবন-জীবিকা আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

করোনার কারনে সুন্দরবনের জেলেদের মাছ ধরা ছাড়া এবার আর কোন কাজ কারার সুযোগ নেই। এবছর দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকলে জেলেরা ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকবে। তাই এ বছর জেলেদের সুযোগ দেয়ার দাবী জানান মাছ ব্যবসায়ী ও জেলে পরিবার।

এ ব্যাপারে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, জুলাই ও আগস্ট মাস হচ্ছে মৎস্য প্রজননের জন্য উপযুক্ত মৌসুম। এই সময় সাধারণত সকল মাছে ডিম ছাড়ে।তাই প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দুই মাস সকল প্রকার মৎস্য আহরন বন্ধ থাকবে।

সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানস এর (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সালে এ সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। এর ফলে সুন্দরবনে এ দুই মাস নিরাপদে মৎস্য প্রজনন ঘটে থাকে।

Tag :

সোনারগাঁও ক্যাপিটাল স্কুল এন্ড কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ

দুই মাস বন্ধ হচ্ছে সুন্দরবনে মাছ ধরা

Update Time : ০২:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২০

সাইমুন নিয়াত, শরণখোলা (বাগেরহাট)প্রতিনিধি

পূর্ব সুন্দরবনের দুই লাখ ৩৪ হাজার একশত ৪৭ বর্গ কিলোমিটার বনভূমির মধ্যে দুই শতাধিক নদী ও খাল রয়েছে। এর মধ্যে অভয়ারণ্য এলাকাসহ ১৮টি খাল এবং ২৫ ফুটের কম প্রসস্ত খালে সারা বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এছাড়া মৎস্য প্রজননের জন্য জুলাই ও আগষ্ট দুই মাস সকল খালে মৎস্য আহরন বন্ধ করা হয়।

আগামী জুলাই ও আগস্ট দুই মাস সুন্দরবনে সকল প্রকার মৎস্য আহরন বন্ধ হচ্ছে। সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও প্রজননরে জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। তবে বিকল্প কর্মসংস্থান না করে মাছ ধরা বন্ধ করার সিদ্ধান্তে জেলেদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চি হয়ে পড়েছে।

এসব নিষিদ্ধ নদী-খাল ছাড়া সারা বছর প্রতি গোনে (প্রতি মাসের আমাবশ্বা ও পূর্ণিমার সময় মাছ ধরার মৌসুম) প্রায় দুই হাজার পারমিটধারী জেলে মৎস্য আহরন করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এ মৎস্য আহরনের উপর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জরিত রয়েছে।

এদিকে জেলেরা জানান বর্তমানে করোনা দুযোর্গের কারনে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে তার উপর মৎস্য আহরন দুই মাস বন্ধ থাকলে জেলেদের জীবন-জীবিকা আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

করোনার কারনে সুন্দরবনের জেলেদের মাছ ধরা ছাড়া এবার আর কোন কাজ কারার সুযোগ নেই। এবছর দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকলে জেলেরা ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকবে। তাই এ বছর জেলেদের সুযোগ দেয়ার দাবী জানান মাছ ব্যবসায়ী ও জেলে পরিবার।

এ ব্যাপারে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, জুলাই ও আগস্ট মাস হচ্ছে মৎস্য প্রজননের জন্য উপযুক্ত মৌসুম। এই সময় সাধারণত সকল মাছে ডিম ছাড়ে।তাই প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দুই মাস সকল প্রকার মৎস্য আহরন বন্ধ থাকবে।

সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানস এর (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সালে এ সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। এর ফলে সুন্দরবনে এ দুই মাস নিরাপদে মৎস্য প্রজনন ঘটে থাকে।