ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের।

স্টাফ রিপোর্টার:

 

কুড়িগ্রামের নদনদীর পানি সামান্য কমতে শুরু করলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ৮ দিন ধরে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যার ফলে বন্যার পানিতে ঘর তলিয়ে বাঁধে মানবেতর জীবনযাপন প্রায় ৫৬টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দা। নেই পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা। শিশু এবং বয়স্করা রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

 

গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর সকল পয়েন্টে কয়েক সেন্টিমিটার করে পানি কমে এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

 

মানুষের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে গবাদি পশুও। বানভাসি এসব মানুষের দাবী এখনো অনেক এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোনো ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেনি।

 

তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় ইতোমধ্যেই ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ও ৩০২ মে.টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বন্যার্ত মানুষের মাঝে বিতরণও করা হচ্ছে।

 

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় ৩ হাজার ৬২২ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, জেলার ৩ পৌরসভা ও ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৫টি বন্যা কবলিত হয়েছে। আর ৩৫৭টি গ্রাম বন্যার পানিতে ভাসছে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ দশমিক ৫০কি.মি বাঁধ এবং ৩৭কি.মি গ্রামীন কাঁচা রাস্তা। ৫শত পরিবার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য যে এরই মাঝে জেলায় ৩ দিনে ৩ শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা।

Tag :

সোনারগাঁও ক্যাপিটাল স্কুল এন্ড কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের।

Update Time : ১০:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার:

 

কুড়িগ্রামের নদনদীর পানি সামান্য কমতে শুরু করলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ৮ দিন ধরে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যার ফলে বন্যার পানিতে ঘর তলিয়ে বাঁধে মানবেতর জীবনযাপন প্রায় ৫৬টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দা। নেই পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা। শিশু এবং বয়স্করা রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

 

গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর সকল পয়েন্টে কয়েক সেন্টিমিটার করে পানি কমে এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

 

মানুষের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে গবাদি পশুও। বানভাসি এসব মানুষের দাবী এখনো অনেক এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোনো ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেনি।

 

তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় ইতোমধ্যেই ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ও ৩০২ মে.টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বন্যার্ত মানুষের মাঝে বিতরণও করা হচ্ছে।

 

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় ৩ হাজার ৬২২ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, জেলার ৩ পৌরসভা ও ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৫টি বন্যা কবলিত হয়েছে। আর ৩৫৭টি গ্রাম বন্যার পানিতে ভাসছে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ দশমিক ৫০কি.মি বাঁধ এবং ৩৭কি.মি গ্রামীন কাঁচা রাস্তা। ৫শত পরিবার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য যে এরই মাঝে জেলায় ৩ দিনে ৩ শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা।